March 22, 2026, 8:24 pm

সংবাদ শিরোনাম
ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

মহালয়া দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

মহালয়া দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

‘মহাশক্তি, মহামায়া, দুর্গতিনাশিনী’ দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে ‘নেমে’ আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল সোমবার মহালয়া পূজার মাধ্যমে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয় বলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী জানান। আগামী ১৪ অক্টোবর দুর্গার বোধন এবং পরদিন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হবে মূল পূজা। আর ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, এবার সারা বাংলাদেশে ৩০ হাজার ২৫৮টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৮৬৩টি। ঢাকা মহানগরে এবার ২৩৪টি মণ্ডপে পূজা হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২৯টি। শৈলেন্দ্রনাথ জানান, ঢাকা মহানগরীতে গত বছরের চারটি স্থানে পূজা হবে না এবার। তবে নতুন করে আরও ৫টি যোগ হয়েছে। এবারের পূজা এক বিশেষ সময়ে উদযাপিত হবে। সামনে নির্বাচন। আমরা আশা করব, সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাথে একাধিক বৈঠক করেছি। তারাও আশ্বস্ত করেছেন। আশা করব এবারের দুর্গোৎসব আরো বেশি আনন্দময় হবে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার প্রাক সন্ধ্যায় অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়নী মুনির কন্যা রূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে, যাবেন দোলায় (পালকি) চেপে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, শাস্ত্র অনুযায়ী দেবী ঘোড়ায় চড়ে এলে তার ফল হয় ‘ছত্রভঙ্গসরঙ্গম’, অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতার প্রকাশ পাবে। রাজনৈতিক উত্থান, পতন, সামাজিক স্তরে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যুর প্রভাব বাড়বে। আর দেবী দোলায় চেপে বিদায় নিলে ফল হয় ‘দোলায়াং মরকং ভবেৎ’। অর্থাৎ, দেখা দেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়। হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয় দেবীপক্ষের। এর আগের পক্ষ হলো পিতৃপক্ষ। এই পক্ষে ভক্তরা তাদের পূর্বপূরুষের আত্মার প্রীতির জন্য অন্ন-জল নিবেদন করে থাকেন। শাস্ত্রে একে বলা হয় তর্পণ। গতকাল সোমবার ভোর থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ সারাদেশে শুরু হয় মহালয়ার আচার-অনুষ্ঠান। ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, প্রথমে চণ্ডীপাঠ করে দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। এ সময় মঙ্গলঘট স্থাপন করে তাতে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হয়। এ ছাড়া সারাদিন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মহালয়া। আগামী ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় হবে দেবী দুর্গার বোধন। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে পূজার মূল আচার অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হবে মহাসপ্তমীর পূজা। ১৭ অক্টোবর মহাঅষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা। রামকৃ মিশন ও মঠে হবে কুমারী পূজা। ১৯ অক্টোবর সকাল বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা। ২০ অক্টোবর সকালে দর্পন বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোক বা যমলোকে বাস করেন। আর এই পিতৃলোকের অবস্থান স্বর্গ ও মর্ত্যরে মাঝামাঝি স্থানে। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যু দেবতা যম। তিনি সদ্য মৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। এরপর পরের প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে আগের প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন। একই সঙ্গে পরমাত্মায় বা ঈশ্বরে বিলীন হন। এ কারণে মহালয়ায় হিন্দুরা তাদের পূর্বে মারা যাওয়া তিন প্রজন্মের ব্যক্তিদের স্মরণ বা তর্পণ করে থাকে। এ দিন শ্রদ্ধানুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি দেন তারা। দুর্গাপূজার মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার রাজধানীতে মণ্ডপগুলো কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তার আয়োজন সাজানোর কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ মিথ্যা ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে নিরাপত্তায় বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেক পূজামণ্ডপে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য আলাদা গেইটের ব্যবস্থা, মণ্ডপের ভেতরে-বাইরে জেনারেটরসহ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা, সিসিটিভি-আর্চওয়ে স্থাপন, পুরুষের পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা, এসবি, পুলিশ এবং র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করা এবং বিসর্জনের দিন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়াও মণ্ডপের আশপাশে কোনো হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ করে কোনো ধরনের মেলা বসতে দেওয়া হবে না। ছিনতাই ও ‘ইভটিজিং’ প্রতিরোধে মোতায়েন থাকবে পুলিশের বিশেষ দল। পূজামণ্ডপে ঢোকার পথে অবশ্যই মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও তল্লাশির ধাপ পেরোতে হবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর